চয়ন কান্তি দাস ও নির্মল চন্দ্র সরকার ::
হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প কাজে বরাদ্দের তৃতীয় কিস্তির টাকা পিআইসিদের প্রদানের সময় চলে এলেও ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের ১৩৪টি প্রকল্প কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা এখনো দ্বিতীয় কিস্তির টাকাই পাননি। ফলে এই দুটি উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধের বেশির ভাগ প্রকল্প কাজ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে এই দুই উপজেলার অন্তত ৩৫টি প্রকল্প কাজ ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধে মাটি ফেলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও বাঁধের ঢালাই ও কমপেকশন সঠিকভাবে করা হয়নি। ৩৫টি প্রকল্প কাজের মধ্যেই ৩০টিতেই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব জানান, সময়মতো বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় ধারদেনা করে তাদেরকে বাঁধের কাজ করতে হয়েছে। পাওনাদারেরা বাঁধে গিয়ে উপস্থিত হয়ে নানা কটু কথা বলছেন। তাই টাকার অভাবে নিরুপায় হয়ে তারা বাঁধের কাজ বন্ধ রেখেছেন।
হাওরপাড়ের কয়েকজন কৃষক বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা মুখে বলা হলেও কাজের বেলা ঠিক থাকে না। এ দেশে শত শত কোটি টাকা নানাভাবে অপচয় হয়ে থাকলেও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ নিয়ে চলে নানা টালবাহানা। বাঁধের কাজে অর্থ বরাদ্দের স্বল্পতার বিষয়টি উদাসীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাঁধের কাজে গাফিলতির কারণে ২০১৭ সালে হাওরে বোরো ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। ফসল হারিয়ে অনেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই দৃশ্যের পুনারাবৃত্তি তারা আর দেখতে চাননা। এবার হাওরের বোরো ফসল নিয়ে কোনো অঘটন ঘটলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। হাওরগুলো হচ্ছে, চন্দ্র সোনার থাল, জ গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া। ধর্মপাশা উপজেলায় প্রকল্পের সংখ্যা ৯৩টি। এর বিপরীতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অপরদিকে মধ্যনগর উপজেলায় প্রকল্পের সংখ্যা ৪১টি। বরাদ্দ ধরা হয়েছে আট কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত ২০ জানুয়ারি মধ্যে পিআইসি’র সভাপতি ও সদস্য সচিবদের মধ্যে প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দের প্রথম কিস্তির চেক দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তৃতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো বরাদ্দের দ্বিতীয় কিস্তির টাকাই আসেনি। নীতিমালা অনুয়ায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পে মাটির কাজের পাশাপাশি বাঁধ ঢালাইকরণ, দৃঢ়করণ এবং ঘাস লাগাতে হবে। চারটি কিস্তিতে পিআইসিদের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত এই দুটি উপজেলায় মাটির কাজ শেষ হয়েছে গড়ে ৭০ভাগ। সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়ায় বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে কী না, তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্মপাশার ইউএনও জনি রায় ও মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, বরাদ্দের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সময়মতো না আসায় পিআইসিরা অর্থ সংকটে পড়েছেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প কাজের প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প কাজের প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় হয়নি। আমরা এ নিয়ে সবরকম চেষ্টা করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে বোরো ফসলরক্ষা নিয়ে শঙ্কা
১৩৪টি প্রকল্পের পিআইসি এখনো পাননি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা
- আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:২১:৩৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি